পরীক্ষায় ফেল করার পর ছাত্রছাত্রীদের সম্ভাব্য যুক্তি

আপডেট: ২৬ জানুয়ারী ২০১৯, ১৩:০২

বাংলা:
ঠিক বুঝে আসছে না! বাঙালি হয়য়া কেউ আবার বাংলায় ফেল করে ক্যাবা করে?

-আমি ফেল করতে চাই নাই রে ভাই! আমাকে ফেল করানো হয়েছে।

ইংরেজি:
তা ইংরেজিতে পাস না করবার কারণ কী ? তুই না ইংরেজির জন্য সাত-সাতখান প্রাইভেট পড়তি!

-আরে, প্রশ্ন তো একশ’ পারসেন্ট কমন ছিল। কিন্তু প্রশ্ন হাতে পাওয়ার কিছু সময় পর হঠাৎ করে ইংরেজদের সেই নির্মম নির্যাতনের কথা মনে পড়ে গেল।

তারপর...। রাগ, ক্ষোভ আর ঘৃণায় সব প্রশ্নের উত্তর বাংলায় লিখেছিলাম।

অংক:
অংক পরীক্ষার দিন খুব একটা ফ্রেশ মন নিয়ে পরীক্ষার হলে গেলাম। পরীক্ষা শুরুর আগে দেখি সবাই ডিউটিতে পড়া স্যারের সঙ্গে কুশল বিনিময় করছেন। সবাই শুনতে চাইছেন স্যার কেমন আছেন । স্যার বললেন ভালো আছেন। পরে আমি মনে করলাম স্যার কেমন আছে সেটা তো বলেই দিলেন, তাহলে আমি আর কী জিজ্ঞেস করব। খপ করে বলে ফেললাম, স্যার, আপনার কি মেয়ে আছে? ব্যস, কাম ফয়সালা হয়ে গেল! প্রশ্নপত্র দেয়ার আগেই বের করে দিলেন। আমিও রাগ খাটায়ে বাড়ি চলে এসেছিলাম।

কৃষি শিক্ষা:
-মাস্টররা যে এত নির্বোধ বোকারাম হতে পারেন, কৃষি শিক্ষা পরীক্ষার আগে কল্পনাও করতে পারিনি।

-কেন, লোকে দেহি বলে, মাস্টেররা গাধা পিটিয়ে মানুষ করেন?

-মানুষ না কচু। ওটা মুখে মুখেই। পরীক্ষা হল কৃষি শিক্ষা আর প্রশ্নপত্র হাতে পেয়েই দেহি- মাছ চাষ, মুরগি চাষ আর কাঠের কথা লেখা। মাথাটা হ্যাং হয়ে গেল। এ যেন ফাজলামি পায়ছে।

যুক্তি বিদ্যা:
তা তু তো কথায় কথায় যুক্তি দিস। যুক্তিহীন কোনো কথা বললেই কাউকে রেহাই দিস না। কিন্তু শেষমেষ সেই যুক্তিবিদ্যায়ও একসিডেন্ট করলি ক্যাবা করে?

-সব পরীক্ষা সকালে হলেও এই পরীক্ষাটা ছিল বিকালে। পরীক্ষার কেন্দ্রে গিয়ে গরমের তীব্রতায় স্যার, কর্মকর্তা, কর্মচারী আর শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ দেখে মাথার ভিতর ইটের ভাটার মতো আগুন দাউ দাউ করতে লাগল। স্যার খাতা দিতেই বিকালের পরীক্ষা হওয়ার পরিবর্তে সকালে পরীক্ষা হওয়ার পিছনে যুক্তি লিখতে লিখতে প্রশ্নের কথা ভুলেই গেছিলাম।

-সবই নাই বুঝলাম। এখন কী করবি, ভেবেছিস কি কিছু?

-কী আর করব! আগামীবার আবার পরীক্ষা দিব। কিন্তু ভাবছি, এমন বোকামি আর করব না। এবার পরীক্ষার খাতায় নাম রোল কিছুই লিখব না। পাস করি আর নাই করি, ফেলের লিস্টে তো নাম আসবে না।