পদক পাচ্ছেন রেকর্ড সংখ্যক পুলিশ সদস্য

আপডেট: ২৭ জানুয়ারী ২০১৯, ১৫:১৬

২০১৮ সালে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে সাহসী ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করায় রেকর্ড সংখ্যক পুলিশ সদস্য পদক পেতে যাচ্ছেন। সাহসিকতা ও সেবায় বাংলাদেশ পুলিশ মেডেল (বিপিএম) ও প্রেসিডেন্ট পুলিশ মেডেল (পিপিএম) পদকের জন্য এরই মধ্যে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করা ৩৫০ জন পুলিশ সদস্যকে মনোনীত করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ পাঠিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। চূড়ান্ত অনুমোদনের পর আগামী ৪ঠা ফেব্রুয়ারি রাজারবাগে পুলিশ সপ্তাহ-২০১৮’র অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই পদক তুলে  দেবেন বলে জানা গেছে। 
এবারই প্রথমবারের মতো একসঙ্গে ৬৪টি জেলার পুলিশ সুপাররা বিপিএম ও পিপিএম পদকের জন্য মনোনীত হয়েছেন। তবে, শেষ মুহূর্তে এই সংখ্যা বেড়ে ৩৬০ জনও হতে পারে বলে পুলিশ সদর দপ্তরসূত্রে জানা গেছে। ২০১৭ সালে এমন ভূমিকার জন্য মোট ১৮২ জন পুলিশ সদস্যকে বিপিএম ও পিপিএম পদক দেয়া হয়। সে হিসাবে গত বছরের তুলনায় এবার প্রায় দ্বিগুণ সংখ্যক পুলিশ সদস্য পদক পেতে পারেন। এর আগে, ২০১৬ সালে এমন পদক পান ১৩২ জন পুলিশ সদস্য।

পুলিশ সদর দপ্তরের সুপারিশে জানা গেছে, ২০১৮ সালে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গিয়ে একজন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন, অনেকে আহতও হয়েছেন। এদের মধ্যে কেউ কেউ পঙ্গুত্ববরণ করেছেন। দেশের স্বাভাবিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখা ও উন্নয়ন-বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ ধরে রাখায় বাংলাদেশ পুলিশ অনন্য সাধারণ পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছে বলেও সুপারিশে উল্লেখ করা হয়েছে। সাহস, বীরত্ব প্রদর্শন ও সেবার অনন্য নজির স্থাপন করায় প্রত্যেক পুলিশ সদস্য রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবিদার। তবে, পদক পেতে এক হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়ে। এসব আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে সুপারিশ প্রণয়ন কমিটি মোট ৩৫০ জন পুলিশ সদস্যকে পদকের জন্য প্রাথমিকভাবে মনোনয়ন দেয়। 

এদের মধ্যে নিহত দুইজন পুলিশ সদস্যকে বিপিএম (মরণোত্তর) এবং গুরুতর আহত ও বীরত্ব প্রদর্শনের জন্য আরো ৩৮ জনসহ মোট ৪০ জন পুলিশ সদস্যকে বাংলাদেশ পুলিশ মেডেল বিপিএম পদকের জন্য মনোনীত করেছে সুপারিশ প্রণয়ন কমিটি। একই ধরনের কাজের জন্য আরো ৬২ জনকে প্রেসিডেন্ট পুলিশ মেডেল পিপিএম পদক দিতে প্রেসিডেন্টের বিবেচনার জন্য সুপারিশ করা হয়। এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ ও জঙ্গি সংক্রান্ত মামলার তদন্ত এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ১০৪ জনকে বিপিএম সেবা ও ১৪৪ জনকে পিপিএম সেবা পদক দেয়ার জন্য সুপারিশ করে পুলিশ সদর দপ্তর। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হয়ে প্রধানমন্ত্রী ও  প্রেসিডেন্টের চূড়ান্ত অনুমোদন শেষে আগামী দু’একদিনের মধ্যেই পদকের বিষয়ে সরকারি আদেশ দেয়া হবে বলে পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে।

পদকের জন্য পুলিশের সব রেঞ্জের ডিআইজি, মহানগরের কমিশনার, জেলার এসপি ও র‌্যাবের ব্যাটালিয়ন প্রধানরা গুরুত্ব পেয়েছেন। মরণোত্তর বিপিএম পদকের জন্য এবার মনোনীত হয়েছেন দুজন পুলিশ সদস্য। তারা হলেন- প্রয়াত পুলিশ পরিদর্শক মো. জালাল উদ্দিন ও প্রয়াত কনস্টেবল মো. শামীম মিয়া। গত বছরের ১৯শে মার্চ রাতে মিরপুরের পীরেরবাগের একটি বাড়িতে অস্ত্র উদ্ধারে অভিযানে গেলে সন্ত্রাসীদের গুলিতে মাথায় গুরুতর আঘাত পান ডিএমপির তৎকালীন গোয়েন্দা পশ্চিম বিভাগ ও পল্লবী জোনাল টিমের পরিদর্শক মো. জালাল উদ্দিন। পরে, একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের মধ্যে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া, ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ও কাউন্টার টেরোরিজম ও ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) প্রধান মনিরুল ইসলাম সাহসিকতায় বিপিএম পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন।

এ ছাড়া, সিটিটিসির স্পেশাল অ্যাকশন গ্রুপের উপ-কমিশনার প্রলয় কুমার জোয়ারদার ও জেলার পুলিশ সুপারদের মধ্যে একমাত্র কক্সবাজারের এসপি এবিএম মাসুদ হোসেন সাহসিকতায় বিপিএম পদকের জন্য মনোনীত হয়েছেন। এ ছাড়া, এবার বিপিএম ও পিপিএম পদকের জন্য মনোনীতদের মধ্যে জেলার পুলিশ সুপার ও মহানগরে দায়িত্বে থাকা এসপি পদমর্যাদার উপ-কমিশনাররা প্রাধান্য পেয়েছেন। পুলিশ সপ্তাহ ২০১৮ ও পদকের বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ সদর দপ্তরের মিডিয়া বিভাগের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) সোহেল রানা বলেন, পদক দেয়ার ক্ষেত্রে সব সময় একটি নীতিমালা অনুসরণ করা হয়। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দক্ষতা, সাহসিকতা, পেশাদারিত্ব বিবেচনায় নিয়ে আবেদন যাচাই-বাছাই করে পদকের জন্য মনোনীতদের তালিকা করা হচ্ছে।