গল্প: অপ্রতিরোধ্য, অসাধারণ, অটুট ও অটল নুর

আপডেট: ০৪ এপ্রিল ২০১৯, ১৮:৫৯

লিখতে বসেছি এক অকুতোভয় বীরের কথা; যার নাম নুরুল হক নুর। বাংলাদেশের শিক্ষিত সমাজ তাকে চেনে। যার নাম গেঁথে থাকবে প্রতিটি সচেতন ছাত্রের হৃদয়ে। হ্যাঁ, তিনিই সেই ছেলে যিনি কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তার সম্পর্কে পরে আসছি। তার আগে কোটা সংস্কার আন্দোলন সম্পর্কে জানা দরকার।

বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে  যখন ৫৬% কোটা ছিল; বিশেষ করে মুক্তিযোদ্ধা কোটা প্রথার কারণে বাংলার হাজারো মেধাবী পথে পথে ঘুরছিল চাকরি না পেয়ে। যখন অদম্য মেধাবীরাও ফিরে আসছিল চাকরি খুঁজতে গিয়ে। ঠিক তখনই এই কোটা প্রথা সংস্কারের দাবি তোলেন বাংলার সাধারণ ছাত্র সমাজ। ধীরে ধীরে এই দাবি জোরালো হতে থাকে এবং গঠিত হয় বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। দেশের সব স্তরের শিক্ষার্থী, বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্ররা কোটা সংস্কারের ব্যানার নিয়ে রাস্তায় নেমে পড়েন। আর এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ; নুর এই পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক।

এই আন্দোলন দমিয়ে রাখতে ক্ষমতায় থাকা সরকার সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীর ওপর পুলিশ দিয়ে হামলা চালায়। সরকার সমর্থিত ছাত্র রাজনৈতিক দল ছাত্রলীগও অস্ত্র, হাতুড়ি ও লাটিসোটা নিয়ে হামলা চালায়। বিশেষ করে হামলা চালানো হয় এই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতা নুর-রাশেদের ওপর। রাশেদকে নেওয়া হয় রিমান্ডে। কিন্তু এত নির্যাতনের পরও দমিয়ে রাখা যায়নি নুরদের। অবশেষে দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয় সরকার। আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাংলার সাধারণ ছাত্রদের কাছে অকুতোভয় নেতা হিসেবে পরিচিতি পান নুরুল হক নুর। ছাত্র সমাজের হৃদয়ে গেঁথে যায় তার নাম।

নুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। আরেকটি তথ্য জানিয়ে রাখা দরকার। দীর্ঘ ২৮ বছর পর ২০১৯ সালের ১১ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই নির্বাচনে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ প্যানেল থেকে ভিপি পদে প্রার্থী হয়েছিলেন সেই অকুতোভয় নুরুল হক নুর। বিপত্তি সেখানেও ঘটে।  নুরদের পরাজিত করতে মরিয়া হয়ে ওঠে ছাত্রলীগ। ভোটের দিন দায়িত্বরত শিক্ষকদের সহায়তায় ভোট জালিয়াতির অভিযোগ শুনে নুরসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা ছুটে যায়। একটি হল থেকে ছাত্রলীগের প্রার্থীদের ব্যলটে সীল মারা কয়েক বস্তা ব্যালটপেপার উদ্ধার করা হয়। এরই মধ্যে ছাত্রলীগ নুরের ওপর হামলা চালায়। আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন নুর। ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তুলে ছাত্রলীগ ছাড়া সব দল ভোট বর্জন করে এবং পুনঃনির্বাচনের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করে।

যদিও ছাত্রলীগ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলতে থাকে, পুনঃনির্বাচনের কোনো প্রশ্নই আসে না। কিন্তু এত উত্তেজনার মাঝেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ফল ঘোষণা করে এবং ভোট জালিয়াতির পরও নুর ছাত্রলীগের প্রার্থীকে দুই হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে ভিপি নির্বাচিত হয়। সত্যিই নুর এক অপ্রতিরোধ্য নেতা; যাকে শত নির্যাতনের পরেও পরাজিত করতে পারেনি বৈরিশক্তি। নুরকে নিয়ে আলোচনার ঝড় ওঠে সারাদেশে।

এক বিশ্লেষক তো বলেই ফেলেছেন, ‘আমি তার মাঝে তরুণ বঙ্গবন্ধুর ছায়া দেখি।’ স্যালুট নুর ভাই, আপনি সত্যিই শিখিয়েছেন কীভাবে সব বাধা মোকাবেলা করে সত্যকে জয় করতে হয়।

লেখক: রায়হান ফরহাদ সাকিল, একাদশ শ্রেণি (ব্যবসায় শিক্ষা) কক্সবাজার সরকারি কলেজ।