বন্ধ হতে যাচ্ছে STEP দুশ্চিন্তায় নিয়োগপ্রাপ্তরা

আপডেট: 2019-05-04 13:10:43

দক্ষ জনশক্তি ব্যতিত কোন ভাবেই একটি দেশের উন্নতি সম্ভব নয় এই অনুধাবন থেকে ও দেশ-বিদেশের শ্রমবাজারের বাস্তব চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য রেখে দেশের কারিগরি শিক্ষার সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার নানাবিধ কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে ও নিরন্তন গ্রহন করে যাচ্ছে। এর অংশ হিসেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের নিয়ন্ত্রানাধীন কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়ধীন "Skills and Training Enhancement Project (STEP)" শীর্ষক প্রকল্প।

প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের গুণগত মান উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের মধ্য দিয়ে আর্থ-সামাজিকভাবে অনগ্রসর শিক্ষার্থীদের নিকট কারিগরি শিক্ষাকে সহজলভ্য করে তোলা ও তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি ও বৃদ্ধির মাধ্যমে দারিদ্র ও বেকারত্ব দূর করা। নিয়োগ প্রাপ্ত হয়ে কর্মরত সকলেই দক্ষতার সাথে র্দীঘ্যদনি ধরে দায়িত্ব পালন করে আসছে। এরই ফলশ্রুততিে কারিগরি শিক্ষার হার, দক্ষ জনশক্তি এবং উদ্যোক্তা বেড়েছে। অথচ যারা এর আয়োজক তারা আজ হতাশায় নিমজ্জিত। তাদের অধিকাংশেরই সরকারি চাকরীতে প্রবেশের বয়স সীমা ইতোমধ্যে অতিবাহিত হয়েছে। STEP- এ কর্মরতরা মনে করনে- দক্ষ জনবল কারিগরি অঙ্গনে রাজস্ব খাতে অন্তর্ভূক্ত করা হলে কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থায় অগ্রণী ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। একই সাথে প্রকল্পে নিয়োজিত জনবলের জীবিকা নির্বাহের ব্যবস্থা হবে।

STEP প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল দেশের বেকারত্ব দূর করনের জন্য বিভিন্ন ট্রেড ভিত্তিক সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা এবং তাদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। দেশের সরকারী-বেসরকারী ৭২টি সংক্ষিপ্ত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিভিন্ন অনুপেশনে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বেকার যুব সমাজকে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলে এবং ৪৯% প্রশিক্ষণার্থীকে চাকুরী প্রদান করে। কিন্তু প্রকল্প মেয়াদ শেষে তাদেরই চাকুরীর অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। তাদের এক কর্মকর্তা বলেন- আমরা জব ফেয়ারের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত হাজার হাজার বেকারদের চাকরীর সুযোগ সৃষ্টি করে দিচ্ছি। অথচ কিছুদিন পর আমাদেরই চাকরী থাকছে না। এটা সত্যিই হাস্যকর!

জানা যায়- প্রকল্প দপ্তরে ২০১১ সাল হতে নিয়োগকৃত এসকল কর্মকর্তা/কর্মচারীর অক্লান্ত পরিশ্রমে আজ STEP প্রজেক্ট বাংলাদেশের সফল প্রজেক্ট হিসেবে বিশ্ব ব্যাংকের স্বীকৃতি ও দেশে-বিদেশে অনেক সুনাম অর্জন করেছে। প্রকল্পটি জুন, ২০১৯ এ সমাপ্ত হবে।