আ.লীগ কার্যালয় উচ্ছেদ, মেয়রের ভাইকে জরিমানা

আপডেট: ২১ এপ্রিল ২০১৯, ১৬:৩৭

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের অভিযান চলাকালে গতকাল শনিবার দুপুরে রাস্তার ওপর নির্মাণসামগ্রী রাখার দায়ে মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনের চাচাতো ভাইকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এই অভিযান চলাকালে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে আওয়ামী লীগের দুটি কার্যালয়ও। সিটি করপোরেশনের নির্বাহী হাকিম সমর কুমার পাল এই অভিযান পরিচালনা করেন।

অর্থদণ্ড দেওয়া মেয়রের চাচাতো ভাইয়ের নাম এ এইচ এম সাইদুজ্জামান নিপন। তাঁর বাড়ি নগরের গ্রেটার রোড এলাকায়। এই অভিযানে আওয়ামী লীগের রাজশাহী মহানগরের ১৪ নম্বর (পশ্চিম) ওয়ার্ড কার্যালয় ও নগরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মহিলা কমপ্লেক্স-সংলগ্ন সিটি বাইপাস রোডে দলটির একটি আঞ্চলিক কার্যালয় গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, ১৫ এপ্রিল থেকে রাজশাহী সিটি করপোরেশন এলাকায় অভিযান চালানো হচ্ছে। প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে প্রায় সন্ধ্যা পর্যন্ত এই অভিযান চলছে। অভিযানে রাস্তার ওপর নির্মাণসামগ্রী রেখে কাজ করার অভিযোগে জরিমানা করা হচ্ছে। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হচ্ছে। জরিমানা পরিশোধ না করা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আটক করে নগর ভবনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

গতকাল শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নগরের গ্রেটার রোড এলাকায় যখন অভিযান চলছিল, তখন ওই রোডের মসজিদের পাশে এ এইচ এম সাইদুজ্জামান নিপন রাস্তার ওপরে নির্মাণসামগ্রী রেখে কাজ করাচ্ছিলেন। এ সময় ম্যাজিস্ট্রেট তাঁকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। জরিমানার টাকা সঙ্গে সঙ্গে আদায় করা হয়।

এ এইচ এম সাইদুজ্জামান নিপন জরিমানা দেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, তিনি আইন ভঙ্গ করে রাস্তার ওপরে নির্মাণসামগ্রী রেখে কাজ করাচ্ছিলেন। এ জন্য তাঁকে জরিমানা করা হয়েছে। তিনি জরিমানার টাকা পরিশোধ করে দিয়েছেন।

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন ঢাকায় রয়েছেন। মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তাঁর চাচাতো ভাইকে জরিমানা করার কথা তিনি শুনেছেন।

এদিকে অভিযান চালিয়ে নগরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মহিলা কমপ্লেক্স-সংলগ্ন সিটি বাইপাস রোডে আওয়ামী লীগের যে কার্যালয় উচ্ছেদ করা হয় তার সাইনবোর্ডে আওয়ামী লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগ এবং যুবলীগের নাম ছিল। এই কার্যালয়টির নাম দেওয়া ছিল ‘আঞ্চলিক কার্যালয়’। অভিযানের আগে স্থাপনা থেকে মালামাল সরিয়ে নেওয়ার জন্য মাইকিং করা হয়। দুটি কার্যালয় থেকে ম্যাজিস্ট্রেট নিজে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি সরিয়ে নিজের গাড়িতে তুলে নেন। আর দলীয় কর্মীরা কার্যালয় থেকে অন্য মালামাল সরিয়ে নেন। ১৪ নম্বর ওয়ার্ড কার্যালয়টি আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরাই ব্যবহার করতেন। এখান থেকেও দলীয় কর্মীরা তাঁদের মালামাল সরিয়ে নেন।

আওয়ামী লীগের দুটি কার্যালয় উচ্ছেদ করার বিষয়ে জানতে চাইলে ম্যাজিস্ট্রেট সমর কুমার পাল বলেন, এই কার্যালয় দুটি নগরের ফুটপাতের ওপরে নির্মাণ করা হয়েছিল। ফুটপাত দখলমুক্ত করতে এই কার্যালয় দুটি উচ্ছেদ করা হয়েছে। তিনি বলেন, গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত এই অভিযানে শতাধিক ছোট-বড় স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। জরিমানা আদায় করা হয়েছে প্রায় ১২ লাখ টাকা।