ক্যাসিনোর রাজ্যে সুন্দরী নায়িকার তালিকায় যারা

আপডেট: 2019-09-26 18:52:43

অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ক্যাসিনোতে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে ধরা পড়েছেন ক্যাসিনো মালিকরা। তবে সে অভিযানের ধাক্কা এসে লেগেছে সিনেমা পাড়াতেও। উচ্চারিত হচ্ছে চলচ্চিত্র জগতের অভিনেত্রীদের নাম।

পুলিশের হাতে আটক ক্যাসিনো মালিক ও টেন্ডারবাজ জি কে শামীম গোয়েন্দা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে বলেছেন, টেন্ডার পেতে চলচ্চিত্রের নায়িকাদের ব্যবহার করতেন তিনি! এতেই নড়েচড়ে বসেছে চলচ্চিত্র অঙ্গন।

যদিও গণমাধ্যমে কোনও নায়িকার নাম প্রকাশ করা হয়নি। তবে আকার ইঙ্গিতে কিছু নাম উঠে আসছে। বাংলা সিনেমার অভিনেত্রী রত্না, এ প্রজন্মের নায়িকা মিষ্টি জান্নাত, রাহা তানহা খান ও শিরিন শীলার নাম এখন ঘুরে ঘুরে উচ্চারিত হচ্ছে অনেকের মুখে।

তবে তাদের মধ্যে রত্না, মিষ্টি জান্নাত ও রাহা তানহা খান কথা বলেছেন। আত্মপক্ষ সমর্থন করে বলেছেন, তারা কেউ জি কে শামীম নামে কাউকে চেনেন না। রত্না বলেন, ‘প্রতিবেদনে আমার নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে যেসব বর্ণনা দেওয়া হয়েছে তা কিছুটা আমার সঙ্গে মিলে যায়। সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় আমি সিনেমায় এসেছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছি—এরকম বেশ কিছু তথ্য মিলে যাচ্ছে। তাই অনেকে মনে করছেন আমি সেই। আমি জি কে শামীম নামে কাউকে চিনি না।

তিনি আরও বলেন, আমি বুকে হাত দিয়ে বলতে পারি, আমি কোনো রকম অবৈধ কাজে কখনো জড়িত ছিলাম না।  কেউ যদি প্রমাণ দিতে পারেন তাহলে যে শাস্তি দেওয়া হবে আমি মাথা পেতে নেবো। আমি আমার জায়গা থেকে সৎ। সততার সঙ্গে সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করেছি।Image may contain: bedroom and indoor

রত্না জানান, প্রকাশিত প্রতিবেদনে যাদের নাম ইঙ্গিত করা হয়েছে তাদেরও উচিত এটা নিয়ে স্টেটমেন্ট দেওয়া, যদি তারা সৎ থাকেন। তাতে করে তদন্তে সত্যটা বেরিয়ে আসবে।

এ বিষয়ে মিষ্টি জান্নাতের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগকারিদের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি ভিডিও প্রমাণ চেয়েছেন। মিষ্টি কিছুটা তেতো ভাষায় বলেন, ‘আমি মিষ্টি কখনো এসব কাজের সঙ্গে জড়িত ছিলাম না। যারা এসব রটিয়ে রেড়াচ্ছে তারা খুব খারাপ মানুষ। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে করছে। আমি অভিযোগকারিদের বলব, আপনারা যদি ভালো মানুষ হয়ে থাকেন তাহলে দয়া করে ভিডিওসহ প্রমাণ দিন। আর যদি না দিতে পারেন তাহলে আমি তখন অ্যাকশন নেবো।’

মডেল ও অভিনেত্রী রাহা তানহা খানের মতে, নিজেদের দোষ ঢাকার জন্য অনেকেই নায়িকাদের নাম ব্যবহার করেন। তার ভাষ্য, কেউ কোথাও ধরা পড়লে সেখানে নায়িকার নাম জুড়িয়ে দেন। এটা এর আগেও হয়েছে। এটা একদম ঠিক না। ধরুন আমি একজনকে চিনি, পরে যদি সে অপরাধ করে পুলিশের হাতে ধরা পরে এবং আমার নাম বলে তাহলে আমি কি অপরাধী হয়ে গেলাম? নায়িকা হওয়ায় অনেক মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ থাকতে পারে। সেলফি তুলতে পারি। তাই বলে সেই লোকের অপরাধের দায় আমার না।

এসময় তিনি জি কে শামীমকে চেনেন না বলে জানান। রাহা বলেন, জি কে শামীম নামে আমি কখনো কাউকে চিনতাম না। নামই শুনিনি কোনোদিন। যদি চিনতাম তাহলে বলতে পারতাম। এখন যদি কেউ আমার নাম জড়িয়ে দেয় তাহলে আমার কিইবা করার থাকে!

তিনি আরও বলেন, আমাদের পেছনে অনেক কোটিপতি ব্যক্তিরা ঘোরে। ঘুরতেই পারে। তাদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য জি কে শামীমের মতো দালালের প্রয়োজন হয় না। গণমাধ্যমে যে খবর এসেছে সেটা ভিত্তিহীন। আমি কখনো কারও অবৈধ কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম না। অন্যদিকে এ বিষয়ে শিরীন শিলার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি। কয়েকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি ফোন ধরেননি।