সহজেই চুল লম্বা করার কার্যকরী টিপস।

আপডেট: 2019-10-20 13:31:12

পার্লারে গিয়ে অজস্র টাকা খরচ না করে নিজেকে একটু সময় দিন। যত্ন নিন চুলের। লম্বা চুলের শখ অথচ চুল কিছুতেই লম্বা হচ্ছে না কিংবা যতটুকু লম্বা হচ্ছে তাও ভেঙে যাচ্ছে- চুল নিয়ে এমন সমস্যায় পড়েন বেশিরভাগ নারী। তাইতো তাদের লম্বা চুলের শখ পূরণ হয় না। এরকমটা হলে সঠিক যত্নের মাধ্যমে চুলে পুষ্টি নিশ্চিত করা সম্ভব। সেইসঙ্গে বেশ দ্রুত চুলের বৃদ্ধিও সম্ভব।

চুল লম্বা করতে চুলের পুষ্টি ফিরিয়ে আনতে হবে। তাহলেই দ্রুত চুল লম্বা হবে। চলুন জেনে নেই চুল লম্বা করার কয়েকটি সহজ উপায়ঃ-

চুলে হিট দেওয়া বন্ধ করুনঃ আমরা প্রায়ই চুল শুকানোর জন্য হেয়ার ড্রায়ার এবং সোজা করার জন্য হেয়ার স্ট্রেইটনার ব্যবহার করে থাকি। আমাদের একটা কথা খুব ভালো করে মনে রাখতে হবে। আমাদের চুল একটি প্রাকৃতিক উপাদান আর এটি কোনও রকম অতিরিক্ত কিছু নেওয়ার জন্য তৈরি হয়নি। যে হিট আপনি ব্যবহার করেন চুলে, সেই হিট নেওয়ার মতো সহ্য ক্ষমতা আমাদের চুলের থাকে না। প্রায় ৫০০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের কাছাকাছি তাপ দেওয়া হয় চুলে চুল স্ট্রেইট করার জন্য। আপনিই ভাবুন, আপনার নরম চুল কী এই তাপ নিতে পারে? ফলে চুলের কিউটিকল দুর্বল হয়ে যায়, চুল পড়া শুরু হয়ে যায়। আর এই তাপে চুলের আর্দ্রতা কমে গিয়ে চুল হয় শুষ্ক আর নির্জীব। সাময়িক চুল শুকানো কিংবা সোজা করা হলেও দীর্ঘ্য সময়ের জন্য চুলের ক্ষতি হয়ে থাকে। তাই চুলে তাপ দেওয়া থেকে দূরে থাকতে হবে।

চায়ের লিকারঃ চা পাতার মধ্যে আছে পলিফেনল আর ভিটামিন। হিটের ফলে চুল পড়ে যায় আর গজানো বন্ধ হয়ে যায়। পলিফেনল আবার নতুন করে চুল গজাতে সাহায্য করবে। এছাড়া এটি চুলকে ক্ষতিকর আল্ট্রা ভায়োলেট রশ্মি থেকে বাঁচাবে আর আনবে আলাদা সাইন। তাই চুলের সৌন্দর্যের জন্য ব্যবহার করুন চায়ের লিকার। একটি পাত্রে চায়ের লিকার নিয়ে তাতে চুল ডুবিয়ে রাখুন ১০ মিনিট অথবা গোসল শেষে লিকারটি দিয়ে আস্তে আস্তে চুল ধুয়ে ফেলুন। আপনার চুলে এই পদ্ধতি কয়েক দিন ব্যবহার করুন। এভাবে আপনি ঘরে বসে সহজে আপনার চুল সুন্দর করতে পারবেন এবং দ্রুত চুল বড় হবে।

অ্যালোভেরা জেল, নারিকেল তেল ও মধুঃ অ্যালোভেরা নিজেই চুলের জন্য খুব উপকারী। তার সাথে যুক্ত হবে তেল ও মধু। ৫ চামচ অ্যালোভেরা জেল, ৩ চামচ নারিকেল তেল ও ৩ চামচ মধু নিন। একটি পাত্রে সবক’টি উপাদান ভালো করে মিশিয়ে নিন। আপনি অ্যালোভেরা গাছ থেকে সরাসরি জেল নিতে পারলে ভালো। নয়তো ভালো কোনো ব্র্যান্ডের থেকেও অ্যালোভেরা জেল কিনে নিতে পারেন। এবার এই মিশ্রণ খুব ভালো করে আপনার স্ক্যাল্পে লাগিয়ে নিন। তারপর ৩০ মিনিট মতো রেখে দিয়ে শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে নিন। এই প্যাক ব্যবহার করতে হবে নিয়ম করে প্রতি সপ্তাহে অন্তত এক বার। তাহলেই উপকার পাওয়া যাবে। এটি চুলকে মোলায়েম রাখে, চুল ভেঙে পড়া থেকে আটকায়। আর চুলের বৃদ্ধিও ভালো হয়।

ডিম ও দুধের মিশ্রণঃ এটি কিন্তু খুব অনবদ্য একটি প্রোডাক্ট। আমাদের চুল মূলত প্রোটিন দিয়ে তৈরি। তাই চুল ভালো করতে গেলে চুলে প্রোটিনের জোগান বজায় রাখতে হবে। ডিম আর দুধের মধ্যে থাকা প্রোটিন এক্ষেত্রে সেই কাজ করবে সরাসরি। আর ডিম ন্যাচারাল কন্ডিশনারও। তাই চুলের ড্যামেজ আটকাতে নিশ্চিন্তে এই মিশ্রণ ব্যবহার করুন। ১টি ডিম ও পরিমাণ মতো সাধারণ তাপমাত্রায় রাখা দুধের মিশ্রণ করুন। খুব পাতলা মিশ্রণ যেন না হয়। এই মিশ্রণ এবার চুলে লাগিয়ে নিন আর রেখে দিন ২০ মিনিটের মতো। তারপর চুল ধুয়ে নিন ঠাণ্ডা পানি দিয়ে। এটি সপ্তাহে এক দিন অবশ্যই করুন। কয়েক দিনের মধ্যে পার্থক্য বুঝতে পারবেন।

৪. লেবুর রসঃ চুলের সৌন্দর্য চর্চায় লেবুর রসের ব্যবহার নানাভাবে হয়। লেবুর রসের সাথে সমপরিমাণ পানি মেশান। এবার চুলে ভালো করে লাগান। ২০-৩০ মিনিট রেখে চুল ধুয়ে ফেলুন। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে চুল বেণী করে ঘুমান।

উপরের এই কয়েকটি পদ্ধতির মধ্যে যে কোনও একটি বা দুটি আপনি আপনার সুবিধে মতো ব্যবহার করুন আর দেখুন ঘরোয়া পদ্ধতিতে কীভাবে আপনার ড্যামেজ চুল আবার সুন্দর, ঝলমলে, প্রাণবন্ত আর লম্বা হয়ে ওঠে। নিয়মিত ব্যবহার করে দেখুন একমাসে ভালো রেজাল্ট পাবেন।

সতর্কতা

  • চুল মোছার জন্য নরম তোয়ালে ব্যবহার করতে হবে। চুল বেশি ঘষে ঘষে মোছা যাবে না। এতে চুল ফেটে যায় বেশি। ভেজা চুল আস্তে আস্তে মুছতে হবে এবং ভেজা অবস্থায় চুল আঁচড়ানো যাবে না।
  • চুল শুকাতে হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার না করে ফ্যানের বাতাসে বা আলো বাতাসপূর্ণ জায়গায় যান।
  • ইলেক্ট্রিক সকল যন্ত্র ব্যবহার পরিহার করতে হবে।
  • চুলের রুক্ষতা কমাতে এবং আগা ফেটে যাওয়ার প্রবণতা রোধ করতে, প্রতিদিন শ্যাম্পু করা বাদ দিতে হবে। কারণ চুল ধোয়ার ফলে, মাথার ত্বকের তেলও ধুয়ে যায়। তাই সপ্তাহে দুই থেকে তিনবারের বেশি শ্যাম্পু করা উচিত নয়। শ্যাম্পুর রাসায়নিক উপাদানও চুলের ক্ষতির কারণ হতে পারে।