চুল পড়া রোধ করুন ঘরোয়া কৌশলে

আপডেট: ৩০ অক্টোবর ২০১৯, ১৩:১৯

চুল মানুষের সৌন্দর্যের অন্যতম আকর্ষণ। আমাদের মাথায় স্বাভাবিক অবস্থায় প্রায় ১০০,০০০ চুল থাকে। যার মধ্যে প্রতিদিন ৫০-১০০ টা চুল পড়ে যাওয়া একেবারে স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু এর থেকে বেশি মাত্রায় পড়তে শুরু করলেই সমস্যার সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন কারনে চুল অতিরিক্ত হারে ঝড়ে পড়তে দেখা যায়। যেমন- পরিবেশ দূষণ, বয়স, স্ট্রেস, স্মোকিং, পুষ্টির অভাব, হরমোনাল ইমব্যালেন্স, জেনেটিক কারণ, স্কাল্প ইনফেকশন, হেয়ার প্রোডাক্টের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার, বেশ কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, থাইরয়েড, অটোইমিউন ডিজিজ, পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম, অ্যানিমিয়া প্রভৃতি। এতে অনেকের টাকও পড়তে দেখা যায়। যারা এই সমস্যা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভুগছেন তাদের জন্য রয়েছে ঘরোয়া সমাধান। ঘরোয়া কিছু নিয়ম মানলেই আপনার চুল পড়া অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

চুল পড়ার কারণঃ ১) বংশগত ২) অতিরিক্ত স্ট্রেস ৩) অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ৪) অতিরিক্ত হেয়ার স্টাইল ৫) ভেজা চুল আঁচড়ানো ৬) অতিরিক্ত শ্যাম্পু করা ৭) শক্ত করে চুল বাঁধা ৮) গরম পানির ব্যবহার।

ভিটামিন ই ক্যাপসুল ও অলিভ অয়েলঃ ভিটামিন ই ক্যাপসুল- ৭-৮টি এবং নারকেল তেল অথবা অলিভ অয়েল মিশ্রিত করুন। এই মিশ্রণটি চুলে ম্যাসাজ করে লাগিয়ে সারারাত থাকুন। পরের দিন চুলে শ্যাম্পু করে ফেলুন। এটি সপ্তাহে দুইবার ব্যবহার করুন। ভিটামিন ই তে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট রয়েছে যা ফ্রি রেডিক্যালের (free radical) সাথে লড়াই করে। এটি মাথার তালুর রক্ত চলাচল বৃদ্ধি করে। নিয়মিত ব্যবহারের চুল পড়া রোধ করে নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে।

অশ্বগন্ধাঃ চুল পড়া আটকাতে যে যে প্রকৃতিক উপাদানগুলো বিশেষ ভূমিকা পালন করে, সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হল অশ্বগন্ধা। এই প্রাকৃতিক উপাদানটিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের ভেতরে প্রবেশ করে এমন কিছু পরিবর্তন করতে শুরু করে যে তার প্রভাবে চুল পড়া ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে। প্রসঙ্গত, পিত্ত দোষের কারণে হওয়া হেয়ার ফল কমাতেও এই অশ্বগন্ধা বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

অ্যালোভেরাঃ এতে রয়েছে এমন কিছু এনজাইম, যা চুলের বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে চুল পড়লেও মাথা ফাঁকা হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে না। পরিমাণ মতো অ্যালোভেরা জেল নিয়ে মাথার ত্বকে লাগিয়ে ফেলুন। কয়েক ঘন্টা অপেক্ষা করে হালকা গরম পানিতে ভাল করে ধুয়ে নিন। প্রসঙ্গত, সপ্তাহে ৩-৪ বার এই ভাবে অ্যালোভেরা জেল মাথায় লাগালে দারুন উপকার পাওয়া যায়। অ্যালোভেরার উপকারিতা কিন্তু এখানেই শেষ নয়। এতে উপস্থিত অ্যালকালাইন প্রপার্টিজ স্কাল্পের পি এইচ লেভেল ঠিক রাখতে সাহায্য করে। ফলে চুল পড়ার হার অনেক কমে যায়। 

মেথিঃ চুল পড়া আটকাতে মেথি দারুন কাজে দেয়। আসলে এতে উপস্থিত বেশ কিছু উপাদান চুলের বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। যখনই দেখবেন চুল পড়ার হার খুব বেড়ে গেছে, তখনই অল্প করে মেথি বীজ নিয়ে এক গ্লাস জলে এক রাত ভিজিয়ে রাখবেন। পরদিন বীজগুলি বেটে নিয়ে পেস্ট বানাবেন। সেই পেস্টটা ভাল করে মাথায় লাগিয়ে ৪০ মিনিট রেখে দিয়ে ধুয়ে নেবেন। টানা একমাস, প্রতিদিন এই মিশ্রনটি মাথায় লাগালে চুল পড়া তো কমবেই, সেই সঙ্গে মাথা ভর্তি চুলের স্বপ্নও পূরণ হবে।

পেঁয়াজের রসঃ ১ টা পেয়াজ থেকে রস সংগ্রহ করে নিন। তারপর সেই রস সরাসরি মাথায় লাগিয়ে ম্যাসেজ করুন। ৩০ মিনিট পরে শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে নিন। প্রসঙ্গত, সপ্তাহে ২-৩ বার এই পদ্ধতিতে চুলের পরিচর্যা করলে ফল পাবেন প্রত্যক্ষ হাতে-নাতে। এতে থাকা সালফার হেয়ার ফলিকেলে রক্ত চলাচল বাড়িয়ে দিয়ে নিমেষে চুল পড়া কমিয়ে ফেলে। তবে এখানেই শেষ নয়, পেঁয়াজের রসে রয়েছে বিপুল পরিমাণে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল প্রপার্টিজ, যা স্কাল্পে ঘর বেঁধে থাকা জীবাণুদের মেরে ফেলে। ফলে স্কাল্প ইনফেকশনের সঙ্গে সঙ্গে চুল পড়ার অশঙ্কাও হ্রাস পায়।

আমলকিঃ চুল পড়া আটকানোর পাশাপাশি চুলের বৃদ্ধিতেও আমলকি নানাভাবে সাহায্য করে থাকে। কারণ এতে উপস্থিত ভিটামিন সি চুলের পুষ্টির ঘাটতি দূর করে, সেই সঙ্গে স্কাল্পের স্বাস্থ্যেরও উন্নতি ঘটায়। ফলে চুল পড়ার প্রবণতা কমে। প্রসঙ্গত, দেহে ভিটামিন-সি-এর ঘাটতি দেখা দিলে চুল পড়া বেড়ে যায়। তাই তো এই ভিটামনটির ঘাটতি যেন কখনো না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখাটা একান্ত প্রয়োজন। এক্ষেত্রে প্রথমে ১ চামচ আমলকির রসের সঙ্গে ১ চামচ লেবুর রস মিশিয়ে নিতে হবে। তারপর সেই মিশ্রণটি ভাল করে চুলে লাগিয়ে সারা রাত রেখে দিয়ে পরদিন সকালে ধুয়ে ফেলতে হবে।

মেহেদী, ডিমের সাদা অংশ ও টকদইঃ মেহেদীর নির্যাস চুলের জন্য অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর, ডিম মাথার ত্বকে সঠিক পুষ্টি যোগাতে সহায়তা করে এবং চুলের ফলিকল মজবুত করে। টকদই চুল ও মাথার ত্বক ময়েস্চারাইজড করে চুল পড়া বন্ধে সহায়তা করে।

* মেহেদী পাতা বাটা বা গুঁড়ো চুলের ঘনত্ব ও লম্বা অনুযায়ী নিন, এতে মেশান ১ টি ডিমের সাদা অংশ এবং ২-৩ টেবিল চামচ টকদই।

* যদি চুল অনেক শুষ্ক হয় তাহলে ভিটামিন ই ক্যাপস্যুল দিয়ে ভালো করে হেয়ার প্যাক তৈরি করে নিন।

* এই প্যাকটি চুলের গোঁড়া থেকে আগা পর্যন্ত ভালো করে লাগিয়ে নিন এবং প্রায় ২ ঘণ্টা এভাবেই রেখে দিন।

* এরপর সাধারণ ভাবে চুল ভালো করে ধুয়ে পরিষ্কার করে নিন (বি:দ্র: যদি প্রথম দিন চুল পানি দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার করে ১ দিন এভাবেই রেখে তার পরের দিন শ্যাম্পু করতে পারেন তাহলে সব চাইতে ভালো ফলাফল পাবেন)।

সতর্কতাঃ

  • ভেজা অবস্থায় চুলের গোড়া নরম হয়ে যায়। এসময় চুল বেশি পড়ে। তাই ভেজা অবস্থায় আঁচড়াবেন না।
  • ধূমপান করলে মাথায় রক্ত সরবরাহের পরিমাণ কমে যায়। এর ফলে চুলের বৃদ্ধি হ্রাস পায় এবং চুল পড়ে। তাই ধূমপান এড়িয়ে চলুন।
  • হেয়ার ড্রায়ার, হেয়ার স্ট্রেইটনার, হেয়ার স্প্রে, জেল ব্যবহার না করাই ভালো।
  • আপনার ব্যবহার করা চিরুনি অন্যকে ব্যবহার করতে দেবেন না। চিরুনি সবসময় পরিষ্কার রাখুন।